মেসি-সুয়ারেজের দুই মিনিটের জাদু

0
318

লা লিগায় এই মৌসুমে একটা ম্যাচও হারেনি বার্সেলোনা। এমনকি গত এক বছরে ভালভার্দের শিষ্যরা কোনো ম্যাচেই হারের তিক্ত স্বাদ পায়নি। সেই বার্সেলোনা আজকের ম্যাচে যখন হেরেই যাচ্ছিল, তখন ত্রাতা হয়ে দেখা দিলেন মেসি-সুয়ারেজ। তাদের দুই মিনিটের জাদুতে শেষতক রক্ষা পেল বার্সেলোনা। সেভিয়ার সঙ্গে ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেসির বার্সেলোনা। লা লিগার চলতি মৌসুমে অপরাজিতর খেতাবটাও হাতছাড়া করেনি স্প্যানিশ এই ফুটবল জায়ান্ট।

চোট থেকে ফিরেছেন এ ছাড়া সামনে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রোমার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। সে জন্যই হয়তো ম্যাচের প্রথমার্ধে মেসিকে খেলানো হয়নি। কিন্তু দল যখন দুই গোল হজম করে বসে আছে, তখন মেসিকে আর বসিয়ে রাখা গেল না। দলকে জেতাতে না পারলেও হারের লজ্জা থেকে বাঁচাতে মেসির ভূমিকা টের পাওয়া গেল হাড়ে হাড়ে।

 

 

ম্যাচের প্রথমার্ধে খেলায় এগিয়ে ছিল সেভিয়াই। একের পর এক আক্রমণে বার্সার রক্ষণ ভেঙে পড়ছিল বারবার। বার্সার রক্ষণের ভুলেই প্রথম গোল পায় সেভিয়া। ৩৬ মিনিটে ফ্রাঙ্কো ভাসকসের গোলে ১-০–তে এগিয়ে যায় সেভিয়া। ৪৪ মিনিটে পিকে একটা সুযোগ পেয়েও সমতা ফেরাতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে সেভিয়া আরও চেপে ধরে বার্সাকে। ৫০তম মিনিটে গোল ব্যবধান বাড়িয়ে (২-০) সেভিয়াকে ভালো একটা উপলক্ষ প্রায় এনেই দিয়েছিলেন মরিয়েল। প্রতিপক্ষ বার্সেলোনায় একজন মেসি কিংবা একজন সুয়ারেজ আছেন বলেই হয়তো হলো না। তবে নিজেদের মাঠে যেভাবে খেলেছে সেভিয়া, জয়টা মনে হচ্ছিল তাদের পাওনা ছিল। ৬০তম মিনিটে মেসি মাঠে নামলে প্রাণ ফিরে পায় বার্সার সমর্থকরা, হয়তো খেলোয়াড়েরাও। কিন্তু মেসিও যেন খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলেন না। ১০-১৫ মিনিট কোনো শটই নিতে পারেননি। ৭৬ মিনিটে একটা সুযোগ পায় মেসি। তাঁর বাঁ পায়ের শট গোলপোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়।

ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে যেন ছন্দ ফিরে পায় বার্সেলোনা। ভালো সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়। ৮৮তম মিনিট, ম্যাচ প্রায় শেষ। তখন আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন বার্সাভক্তরা। তাদের প্রত্যাশা টিকিয়ে রেখেছেন সুয়ারেজ। তাঁকে মার্কে রাখতে পারেনি সেভিয়ার রক্ষণের খেলোয়াড়েরা। সুয়ারেজের শট সেভিয়ার গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলে গোলে ব্যবধান কমে (১-২)। এরপর খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ৫৩ সেকেন্ড পর (৮৯ মিনিটে) মেসির গোলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে বার্সা–সমর্থকরা। মেসির দুর্দান্ত শটের গোলে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। আপাতত এই-ই সান্ত্বনা—‘হারতে হয়নি’।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here