বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদানে সেরা শাওমি : রেডকোয়ান্টা

ভারতের শীর্ষস্থানীয় কনজ্যুমার ইন্টেলিজেন্স ফার্ম রেডকোয়ান্টা আজ (মঙ্গলবার) বৈশ্বিক প্রযুক্তি লিডার শাওমিকে বাংলাদেশে ২০১৯ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বিক্রয়োত্তর সেবায় ‘সেরা ব্র্যান্ড’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, শাওমি তাদের বিক্রয়োত্তর সেবার মাধ্যমে কোভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাতিকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

রেডকোয়ান্টা প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ার গতিকে প্রধান লক্ষ্য ধরে শাওমি বাংলাদেশের বিক্রয়োত্তর সেবায় গ্রাহকদের সন্তুষ্টি নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। শাওমি বিক্রয়োত্তর গ্রাহকসেবার বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ করে অবকাঠামো এবং পরিবেশ, সমস্যা সমাধান ও কর্মীদের সেসব বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধিতেও উন্নতি করেছে। ২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিক থেকে ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত সময়ে বিক্রয়োত্তর সেবায় ক্রমাগত উন্নতি করেছে শাওমি। আর এই সময়ে অন্য ব্র্যান্ড বিশেষ করে স্যামসাং এবং হুয়াওয়ের থেকে শাওমির সেবার ব্যবধান ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে।

গ্রাহক ব্যবহার অনুসন্ধান এবং শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো তাদের গ্রাহকদের বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তা বোঝার জন্য রেডকোয়ান্টা জরিপটি পরিচালনা করেছে। একজন সাধারণ গ্রাহক তার স্মার্টফোন মেরামত বা সার্ভিস পাবার ক্ষেত্রকে পাঁচটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো সেবা দেবার অবকাঠামো ও পরিবেশ, সেবার সহজলভ্যতা, কর্মীদের ব্যবহার, সমস্যা সমাধানের সময়সীমা এবং সমস্যা সমাধানের গুণগত মান। এই সেবাগুলোর প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা করে স্কোর এবং তা বিশ্লেষণ করা হয়। ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরগুলোতে দেশের শীর্ষস্থানীয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমি, স্যামসাং ও হুয়াওয়ের উপর জরিপটি করা হয়েছে ।

এছাড়াও, সীমিত পরিসরে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ায় শাওমি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় দেশব্যাপী কাজ করা সম্মুখ যোদ্ধা তথা সেনাবাহিনী, পুলিশ সদস্য এবং মেডিকেল ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের জন্য বিনামূল্যে বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করছে। একই সঙ্গে স্মার্টফোনের খুচরা যন্ত্রাংশে তাদের জন্য ছাড় দিচ্ছে। অফারটি শাওমির অনুমোদিত সব সার্ভিস সেন্টারে চলতি মে মাসের শেষ পর্যন্ত পাবেন তাঁরা।

শাওমি বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘শাওমির প্রতি আপনাদের অগাধ ভালোবাসা এবং সমর্থন পেয়ে আমরা খুবই কৃতজ্ঞ। কোভিড-১৯ মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করে জাতিকে রক্ষা করতে যে সকল সম্মুখভাগের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের জন্য এই সেবা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমাদের সুরক্ষিত রাখতে যে হিরোরা কাজ করছেন তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।’

‘শাওমি বাংলাদেশের জন্য এটা অত্যন্ত গর্বের যে, এই সময়ে বিক্রয়োত্তর সেবায় বাংলাদেশে সেরা ব্য্যান্ড হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এটি অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য পূরণে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে এবং শাওমির সঙ্গে গ্রাহকদের সংযোগ আরও বাড়াতে সহায়তা করেছে। সেবার মান অবশ্যই আমাদের কাছে সফলতার অন্যতম একটা স্তম্ভ এবং সারাদেশে বিক্রয়োত্তর এবং গ্রাহক সেবায় সর্বোত্তম উদ্ভাবনী ব্যবস্থাগুলো বাস্তাবায়নে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

শাওমি সম্পর্কে

শাওমি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে এবং ২০১৮ সালের ৯ জুলাই (১৮১০.এইচকে) হংকং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়। শাওমি একটি ইন্টারনেট কোম্পানি যা আইওটি প্লাটফর্মের মাধ্যমে স্মার্টফোন ও স্মার্ট হার্ডওয়্যারের সেঙ্গ সংযুক্ত। গ্রাহকদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে এবং তাদের হৃদয়ে ‘কুলেস্ট কোম্পানি’ হওয়ার লক্ষ্যে, শাওমি ক্রমাগত নতুন সব উদ্ভাবন নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একই সঙ্গে কোম্পানিটি গুরুত্ব দেয় গুণগত মান এবং দক্ষতার ওপর। কোম্পানিটি নিরবচ্ছিন্নভাবে বিশ্বের সেরা সব উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত জীবন উপভোগ করতে ‘অনেস্ট প্রাইস’ বা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য তৈরি করে থাকে। বর্তমানে শাওমি বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম স্মার্টফোন ব্র্যান্ড এবং বিশ্বের বৃহত্তম কনজ্যুমার আওটি প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেছে। এই প্লাটফর্মে ১৭১ মিলিয়নের বেশি ডিভাইস (স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপ ছাড়া) সংযুক্ত রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে শাওমির পণ্যগুলো ব্যহার হচ্ছে এবং এসব বাজারের অনেকগুলোতে শাওমি শীর্ষ স্থানে রয়েছে।

২০১৯ সালের জুলাইয়ে কোম্পানিটি ফরচুন গ্লোবালের সেরা ৫০০ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে, তালিকায় শাওমির অবস্থান ৪৬৮তম। আর ইন্টারনেট সার্ভিস এবং রিটেইলিং ক্যাটেগরিতে সপ্তম। সারাবিশ্বে ৫০০ কোম্পানির মধ্যে শাওমি এখন সর্বকনিষ্ঠ।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *